কালার ব্লাইন্ড টেস্ট আসলে কী দেখে, আর কাদের জন্য?
এই টেস্ট দেখে তোমার চোখ লাল আর সবুজের কাছাকাছি রংগুলো কতটা আলাদা করতে পারে। বর্ণান্ধতার সবচেয়ে পরিচিত ধরনটা এই দুই রং নিয়েই, আর সেটা মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের মধ্যে অনেক বেশি দেখা যায়, কারণ এটা মায়ের দিক থেকে বংশগতভাবে আসে।
যে কেউ দিতে পারে: স্কুলের বাচ্চা যার আর্ট ক্লাসে রং গুলিয়ে যায়, ভর্তি পরীক্ষা বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের আগে নিজেকে যাচাই করতে চাওয়া তরুণ, কিংবা এমন কেউ যাকে বন্ধুরা বারবার বলে, তুই এটাকে সবুজ বলছিস কেন। কোনো অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপ লাগে না।

প্লেটগুলো একটার পর একটা কীভাবে খেলব?
প্রথম প্লেটটা স্ক্রিনে এলে একটু সময় নিয়ে তাকাও। নিচে চারটা সংখ্যা থাকবে, যেটা দেখছ সেটায় ট্যাপ করো। কিছুই ফুটে না উঠলে কিছু দেখছি না বোতামটা আছে, সেটা চাপলেও কোনো ক্ষতি নেই, বরং সেটাই সৎ উত্তর।
বারোটা প্লেট শেষ হলে স্কোর আসে, সাথে তিনটা ফলের একটা: রঙের দৃষ্টি সম্ভবত স্বাভাবিক, কিছু প্লেট কঠিন ছিল, অথবা সম্ভাব্য লাল-সবুজ ঘাটতি। প্রতিটির সাথে ছোট ব্যাখ্যা থাকে, যাতে বুঝতে পারো সংখ্যাটা কেন কম বা বেশি হলো।
প্লেটে কী ধরনের সংখ্যা লুকানো থাকে?
প্রতিটি প্লেট আলাদা রঙের জোড়া দিয়ে বানানো, তাই কোনোটা সহজ আর কোনোটা সত্যিই চোখ কুঁচকে দেখার মতো। যেমন ধরো:
- সবুজ বিন্দুর ভিড়ে কমলা রঙে লেখা ৭, যেটা প্রায় সবাই পড়ে
- কমলা আর হলুদের মাঝে সবুজ ৪, লাল-সবুজ ঘাটতি থাকলে যেটা মিলিয়ে যায়
- ধূসর বিন্দুর মধ্যে ম্লান লাল ২৯, উজ্জ্বলতা এত কাছাকাছি যে অনেকে দেরিতে ধরে
- একটা চেক প্লেট, যেখানে সংখ্যাটা সবার চোখে ধরা পড়ার কথা
স্ক্রিন আর আলো কি রেজাল্ট বদলে দেয়?
হ্যাঁ, অনেকটাই। সস্তা ফোনের স্ক্রিন, নাইট মোড, ব্লু লাইট ফিল্টার বা রোদে বসে টেস্ট দিলে রং পাল্টে যায় আর স্কোর নেমে আসে। তাই ব্রাইটনেস বাড়িয়ে ঘরের ভেতরে একবার দাও, আর যদি দুই প্লেটের বেশি মিস হয়, আরেকটা ডিভাইসে আবার চেষ্টা করো।
একই কারণে এটা কোনো চূড়ান্ত রায় নয়। চোখের ডাক্তার ছাপানো প্লেট, নিয়ন্ত্রিত আলো আর আরও অনেক বেশি ছবি দিয়ে পরীক্ষা করেন। এখানে যা পাচ্ছ তা একটা প্রাথমিক ধারণা।
বাংলাদেশে এই টেস্ট এত শেয়ার হয় কেন?
কারণটা সহজ: ফল আসার পর বন্ধুরা মানতে চায় না। কেউ ১২-তে ১২ পেয়ে স্ক্রিনশট দিল, তারপর মেসেঞ্জার গ্রুপে একে একে সবাই চেষ্টা করল, আর দেখা গেল একজন মাত্র ছয়টা পড়েছে। সেই ছেলেকে নিয়ে তারপর সারা সপ্তাহ ঠাট্টা চলে।
এর বাইরে পুলিশ, সেনাবাহিনী, পাইলট বা মেরিন একাডেমির ভর্তির আগে অনেকে ঘরে বসে একবার নিজেকে যাচাই করে নেয়, যাতে মেডিকেল বোর্ডে গিয়ে চমকে না যায়। আর ভাইবোনেরা একসাথে দিলে কে কার মতো চোখ পেয়েছে সেই আলোচনাও জমে ওঠে।
কালার ব্লাইন্ড টেস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
আমি কালার ব্লাইন্ড কি না কীভাবে বুঝব?
সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো লাল, সবুজ, বাদামি আর কমলা গুলিয়ে ফেলা, যেমন কাঁচা আর পাকা মরিচের রং একই মনে হওয়া, বা সবুজ ট্রাফিক বাতিকে সাদাটে দেখা। এই ১২ প্লেটের টেস্টে একাধিক সংখ্যা মিস করলে সেটা একটা ইঙ্গিত, নিশ্চিত হতে চোখের ডাক্তারের কাছে যাও।
কালার ব্লাইন্ড টেস্টে কত স্কোর স্বাভাবিক?
বারোটার মধ্যে দশ বা তার বেশি পড়তে পারলে এই টেস্টের হিসেবে রঙের দৃষ্টি স্বাভাবিক ধরা হয়। সাত থেকে নয় হলে স্ক্রিন বা আলোর কারণে হতে পারে, তাই ভালো আলোয় আবার দাও। ছয় বা তার নিচে হলে লাল-সবুজ ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে।
ফোনে কালার ব্লাইন্ড টেস্ট দেওয়া কি ঠিক আছে?
ঠিক আছে, তবে ব্রাইটনেস পুরো বাড়িয়ে, নাইট মোড আর আই কমফোর্ট ফিল্টার বন্ধ করে দাও। সরাসরি রোদে স্ক্রিন ফ্যাকাশে দেখায়, তাই ঘরের ভেতরে বসো। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে দিলে সাধারণত রংগুলো আরও পরিষ্কার দেখা যায়।
বর্ণান্ধতা কি সারানো যায়?
বংশগত লাল-সবুজ বর্ণান্ধতার কোনো চিকিৎসা নেই, তবে এটা নিয়ে মানুষ পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবন কাটায়। কিছু বিশেষ চশমা রঙের পার্থক্য বাড়িয়ে দেখায়, কিন্তু চোখ ঠিক করে না। ফোনের অ্যাক্সেসিবিলিটি সেটিংসে রং ফিল্টারও কাজে লাগে।
ছেলেদের মধ্যে কালার ব্লাইন্ডনেস বেশি কেন?
রং চেনার জিনটা এক্স ক্রোমোজোমে থাকে। ছেলেদের একটা এক্স, তাই সেটায় সমস্যা থাকলেই প্রভাব পড়ে। মেয়েদের দুটো এক্স, একটায় সমস্যা থাকলে অন্যটা সামলে নেয়। এজন্য মা বাহক হলে ছেলের মধ্যে এটা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চাকরির মেডিকেলে কি কালার ব্লাইন্ড টেস্ট হয়?
বাংলাদেশে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমান, রেলওয়ে, মেরিন আর ইলেকট্রিক্যাল কিছু পদে রং চেনার পরীক্ষা নেওয়া হয়, সাধারণত ছাপানো ইশিহারা প্লেট দিয়ে। এই অনলাইন টেস্ট তার জায়গা নেয় না, তবে আবেদন করার আগে একটা ধারণা পেতে কাজে লাগে।
বাচ্চাদের দিয়ে এই টেস্ট করানো যাবে?
যে বাচ্চা সংখ্যা চেনে, সে দিতে পারবে। স্কুলে রং নিয়ে ভুল হলে বাবা-মায়েরা ঘরে একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে ছোটরা অনেক সময় অনুমান করে ট্যাপ করে, তাই ফল যা-ই আসুক, সত্যি সন্দেহ থাকলে শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নাও।
আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো
- রিঅ্যাকশন টাইম টেস্টস্ক্রিন সবুজ হওয়ার মুহূর্তে ট্যাপ করো। পাঁচ রাউন্ড, মিলিসেকেন্ডে তোমার গড়। বন্ধুদের চেয়ে দ্রুত?
- টাইপিং স্পিড টেস্ট৩০, ৬০ বা ১২০ সেকেন্ড একটা ছোট লেখা টাইপ করো। মিনিটে শব্দ আর নির্ভুলতা জানো, তারপর বন্ধুদের চ্যালেঞ্জ করো।
- আইকিউ টেস্ট৩০টির ভাণ্ডার থেকে ২০টি লজিক, প্যাটার্ন, সংখ্যা আর শব্দের ধাঁধা। লজিক লেভেল জানো আর বন্ধুদের চ্যালেঞ্জ করো।